ব্লুমবার্গ প্রতিবেদন

ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা বিলের চাপ মোদির কাঁধে

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সুনির্দিষ্ট করে কোনো দেশের কথা না বললেও মূলত ভারতকে চাপে ফেলতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গত বছর এ ভিসার ৭০ শতাংশেরও বেশি পেয়েছিল ভারতীয়রা। তাই স্বাভাবিকভাবে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব তাদের ওপরই পড়বে।

সম্প্রতি এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সুনির্দিষ্ট করে কোনো দেশের কথা না বললেও মূলত ভারতকে চাপে ফেলতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গত বছর এ ভিসার ৭০ শতাংশেরও বেশি পেয়েছিল ভারতীয়রা। তাই স্বাভাবিকভাবে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব তাদের ওপরই পড়বে।

এইচ-১বি ভিসা বিল এখন শুধু একটি অভ্যন্তরীণ মার্কিন নীতি নয়, বরং ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এরই মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘মানবিক সংকট’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের প্রতিভা দেখে আমেরিকা ভয় পেয়েছে।’

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন ঠান্ডা হয়ে গেছে। সম্প্রতি মোদির জন্মদিনে ট্রাম্প ফোন করায় আশা জেগেছিল যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে। এমনকি গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি উষ্ণ বার্তা দিলেও, ট্রাম্পের এইচ-১বি নীতির প্রভাব কমেনি। বিশেষ করে ছাড়মূল্যে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এমন বিপাকে পড়েছে ভারত। একই কারণে এর আগে তাদের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছে ট্রাম্প।

যদিও ট্রাম্প মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশী কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত কর ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যে একটি ‘এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ও শর্তাবলীতে’ কঠোরতা আনার কথা বলছে। তার ভাষায় পদক্ষেপটি ‘আমেরিকান চাকরি, আমেরিকান নাগরিকের জন্য— নীতির প্রতিফলন।

প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের উদ্দেশ্যে করেন। বিলটি পাস হলে ভারতের আইটি খাত ও তরুণ পেশাজীবীদের ওপর বড় ধাক্কা আসতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোদি প্রশাসন এরই মধ্যে মার্কিন কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে অনেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন, যেখানে অভিবাসন ইস্যু আবার কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে পারে। মোদির জন্য এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও